Color Switcher

Besra

Accipiter virgatus
  • Home
  • Besra Details
iconAbout Besra

Besra সম্পর্কে মৌলিক তথ্য

Besra সম্পর্কে মৌলিক তথ্য

Scientific NameAccipiter virgatus
Status LC অসংকটাপন্ন
Size29-39 cm (11-15 inch)
Colors
Brown
White
TypeBirds of Prey

ভূমিকা

বেসরা (Accipiter virgatus) হলো অ্যাক্সিপিটারিডি পরিবারের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত ক্ষিপ্র এবং ছোট আকারের শিকারি পাখি। এটি মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘন বনভূমি এবং পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে। শিকারি পাখিদের মধ্যে বেসরা তার ক্ষিপ্রতা এবং শিকার ধরার অনন্য কৌশলের জন্য পরিচিত। এদের শরীরের গঠন এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে যে, এরা ঘন জঙ্গলের ডালপালার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়ে গিয়ে শিকার ধরতে সক্ষম। বেসরা পাখি সাধারণত লাজুক প্রকৃতির হয় এবং মানুষের চোখের আড়ালে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Accipiter virgatus, যা এদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পাখিটি মূলত ইঁদুর, ছোট পাখি এবং সরীসৃপ শিকার করে বেঁচে থাকে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শিকারি পাখি হিসেবে বেসরার ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রকৃতিপ্রেমী এবং পক্ষীবিজ্ঞানীদের কাছে এই পাখিটি তার রহস্যময় জীবনযাত্রার কারণে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এই নিবন্ধে আমরা বেসরা পাখির জীবনচক্রের প্রতিটি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যা আপনাকে এই চমৎকার পাখিটি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে।

শারীরিক চেহারা

বেসরা পাখি আকারে ছোট এবং সুঠাম দেহের অধিকারী। এদের দৈর্ঘ্য সাধারণত ২৯ থেকে ৩৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক বেসরার পিঠের দিকের অংশ গাঢ় বাদামী রঙের হয়, যা এদের ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে। এদের বুকের দিকের অংশ সাদা রঙের হয়, যেখানে গাঢ় বাদামী বা কালো রঙের আড়াআড়ি দাগ বা রেখা থাকে, যা এদের চেনার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। পুরুষ এবং স্ত্রী বেসরার মধ্যে আকারে কিছুটা পার্থক্য থাকে, স্ত্রী পাখি সাধারণত পুরুষ পাখির তুলনায় কিছুটা বড় হয়। এদের চোখগুলো সাধারণত উজ্জ্বল হলুদ বা কমলা রঙের হয়, যা এদের শিকারি স্বভাবের বহিঃপ্রকাশ। এদের ডানাগুলো ছোট কিন্তু বেশ শক্তিশালী, যা ঘন বনের ভেতর দিয়ে উড়াল দেওয়ার জন্য উপযুক্ত। লেজটি লম্বা এবং তাতে সুস্পষ্ট কালচে রঙের ব্যান্ড থাকে। এদের নখগুলো অত্যন্ত ধারালো এবং শক্তিশালী, যা শিকারকে শক্ত করে ধরে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়। সামগ্রিকভাবে, বেসরা তার শারীরিক গঠনের মাধ্যমে শিকারের জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখে।

বাসস্থান

বেসরা পাখি মূলত ঘন এবং মিশ্র চিরসবুজ বনভূমি পছন্দ করে। এদের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জে দেখা যায়। এরা সাধারণত আর্দ্র বন বা পাহাড়ি এলাকার বনাঞ্চলে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ঘন গাছপালা এবং গাছের মগডাল এদের পছন্দের জায়গা। এরা সাধারণত খুব বেশি উঁচুতে না থেকে বনের মধ্যম স্তরে অবস্থান করে। জনবসতি থেকে দূরে, নিরিবিলি পরিবেশই এদের প্রধান আবাসস্থল। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এরা চা বাগান বা বড় পার্কের আশপাশেও দেখা যেতে পারে যদি সেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য এবং গাছপালা থাকে। এরা মূলত বনের গভীরে নিজের আস্তানা তৈরি করে এবং সেখানেই জীবন অতিবাহিত করে।

খাদ্যাভ্যাস

বেসরা একটি দক্ষ শিকারি পাখি এবং এদের খাদ্যাভ্যাস মূলত মাংসাশী। এরা প্রধানত ছোট পাখি শিকার করে জীবনধারণ করে। এছাড়া এদের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ইঁদুর, ছোট টিকটিকি এবং বড় ধরনের কীটপতঙ্গ অন্তর্ভুক্ত থাকে। শিকার ধরার সময় বেসরা অত্যন্ত কৌশলী। এরা গাছের ডালে চুপচাপ বসে থাকে এবং শিকারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই এরা বিদ্যুৎগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে শিকারকে থাবার মধ্যে আটকে ফেলে। এদের শিকার ধরার দক্ষতা এতটাই বেশি যে এরা উড়ন্ত ছোট পাখিদেরও মাঝ আকাশে ধরে ফেলতে সক্ষম। খাবারের সন্ধানে এরা বনের ভেতরে এক গাছ থেকে অন্য গাছে শিকারের খোঁজ চালিয়ে যায়।

প্রজনন এবং বাসা

বেসরা পাখির প্রজনন মৌসুম সাধারণত বসন্তকাল থেকে শুরু হয়ে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময়ে এরা নিজেদের এলাকা রক্ষা করতে বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এরা সাধারণত উঁচুতে এবং ঘন পাতার আড়ালে গাছের ডালে ডালপালা ও লতাপাতা দিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে। বাসাটি সাধারণত গোল আকৃতির হয় এবং ভেতরে নরম ঘাস বা পালক দিয়ে আস্তরণ দেওয়া থাকে। একটি স্ত্রী বেসরা সাধারণত ২ থেকে ৪টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা রঙের হয় এবং তাতে বাদামী রঙের ছোপ থাকে। ডিম পাড়ার পর স্ত্রী পাখিটি ডিমে তা দেয় এবং পুরুষ পাখিটি এই সময়ে স্ত্রী এবং ছানাদের জন্য খাবারের জোগান দেয়। ছানাগুলো ফুটে ওঠার পর প্রায় এক মাস পর্যন্ত মা-বাবার তত্ত্বাবধানে থাকে এবং এরপর তারা স্বাধীনভাবে উড়তে শেখে।

আচরণ

বেসরা অত্যন্ত লাজুক এবং সতর্ক প্রকৃতির পাখি। এরা সাধারণত একাকী থাকতে পছন্দ করে এবং খুব কমই জোড়ায় জোড়ায় দেখা যায়। এদের ডাক বেশ তীক্ষ্ণ এবং উচ্চস্বরের, যা মূলত প্রজনন ঋতুতে বা নিজেদের এলাকা জানান দিতে ব্যবহৃত হয়। এরা বনের ভেতর দিয়ে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে উড়তে পারে এবং ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়েও এদের ওড়ার ক্ষমতা অসাধারণ। এরা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। মানুষের উপস্থিতিতে এরা দ্রুত আড়ালে চলে যায়, তাই এদের দেখা পাওয়া বেশ কঠিন। এদের শিকার করার দক্ষতা এবং ক্ষিপ্রতা এদের বনের অন্যতম সফল শিকারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সংরক্ষণ অবস্থা

আইইউসিএন (IUCN) এর তথ্যানুযায়ী, বেসরা পাখিকে 'ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত' (Least Concern) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে এদের সংখ্যা বিভিন্ন অঞ্চলে বনভূমি ধ্বংস এবং আবাসস্থল সংকোচনের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় এদের খাদ্যের উৎসও কমে আসছে। পরিবেশ দূষণ এবং কীটনাশকের ব্যবহার এদের প্রজনন হারকে প্রভাবিত করছে। বর্তমান বিশ্বে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বেসরা পাখির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল বা বনাঞ্চল রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে বনাঞ্চল সংরক্ষণের মাধ্যমেই এদের সংখ্যা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

আকর্ষণীয় তথ্য

  1. বেসরা পাখি তার ছোট শরীরের তুলনায় অত্যন্ত শক্তিশালী শিকারি।
  2. স্ত্রী বেসরা পুরুষ বেসরার তুলনায় আকারে বড় হয়।
  3. এরা উড়ন্ত পাখিকেও মাঝ আকাশে শিকার করতে পারে।
  4. এদের চোখের রঙ সাধারণত উজ্জ্বল হলুদ বা কমলা হয়।
  5. এরা ঘন বনের ভেতরেও অতি দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম।
  6. বেসরা পাখি খুব লাজুক প্রকৃতির হওয়ায় এদের মানুষের চোখের আড়ালে থাকতেই দেখা যায়।

পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য টিপস

আপনি যদি বেসরা পাখি পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করেন, তবে আপনাকে প্রচুর ধৈর্য ধরতে হবে। যেহেতু এরা খুব লাজুক, তাই বনের গভীরে নিরিবিলি স্থানে গিয়ে অপেক্ষা করা প্রয়োজন। ছদ্মবেশ ধারণের জন্য সবুজ বা বাদামী পোশাক পরলে সুবিধা হয়। ভালো মানের বাইনোকুলার সাথে রাখা জরুরি, কারণ এরা সাধারণত অনেক উঁচুতে গাছের ডালে লুকিয়ে থাকে। ভোরে বা পড়ন্ত বিকেলে এদের সক্রিয়তা বেশি দেখা যায়। বনের ভেতর কোনো শব্দ না করে চুপচাপ বসে থাকলে এদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ক্যামেরায় ছবি তোলার জন্য দীর্ঘ লেন্স ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। পাখির কোনো ক্ষতি না করে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করাই একজন ভালো পক্ষীবিদের পরিচয়।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, বেসরা পাখি প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। এদের ক্ষিপ্রতা, শিকার ধরার দক্ষতা এবং বনাঞ্চলে বেঁচে থাকার কৌশল আমাদের মুগ্ধ করে। একটি ছোট শিকারি পাখি হিসেবে এরা বনের বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও বর্তমানে এদের অস্তিত্ব নিয়ে খুব বড় ঝুঁকি নেই, তবুও বন উজাড় এবং পরিবেশ পরিবর্তনের ফলে এদের বাসস্থান সংকটের মুখে পড়তে পারে। আমাদের সকলের উচিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেষ্ট হওয়া এবং এই সুন্দর পাখিটিকে তার প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্বিঘ্নে বাঁচতে দেওয়া। প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এই বিরল এবং রহস্যময় পাখিটির সম্পর্কে আরও বেশি জানা এবং অন্যদের সচেতন করা। বেসরা পাখির মতো শিকারি পাখিদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে আমাদের বনভূমি এখনো সজীব এবং প্রাণবন্ত। আশা করি, এই নিবন্ধটি থেকে আপনারা বেসরা পাখি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় এবং বিস্তারিত তথ্য পেয়েছেন, যা ভবিষ্যতে আপনাদের পক্ষী পর্যবেক্ষণে সহায়ক হবে। প্রকৃতির এই অনন্য শিকারিকে রক্ষা করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

বিতরণ মানচিত্র ও এলাকা

Official Distribution Data provided by
BirdLife International and Handbook of the Birds of the World (2025)

besra পরিবারের আরও প্রজাতি দেখুন