গুসান্ডার (Mergus merganser), যা অনেক জায়গায় বড় মারগানজার নামেও পরিচিত, একটি বৃহদাকার এবং অত্যন্ত দক্ষ শিকারি হাঁস জাতীয় পাখি। এরা মূলত উত্তর গোলার্ধের নদী ও হ্রদে বিচরণ করে। এদের চমৎকার সাঁতার ও ডুব দেওয়ার ক্ষমতা এদেরকে অনন্য করে তুলেছে।
Mergus merganser
| Scientific Name | Mergus merganser |
|---|---|
| Status | LC অসংকটাপন্ন |
| Size | 58-72 cm (23-28 inch) |
| Colors |
Grey
Brown
|
গুসান্ডার (Mergus merganser), যা অনেক জায়গায় বড় মারগানজার নামেও পরিচিত, একটি বৃহদাকার এবং অত্যন্ত দক্ষ শিকারি হাঁস জাতীয় পাখি। এরা মূলত উত্তর গোলার্ধের নদী ও হ্রদে বিচরণ করে। এদের চমৎকার সাঁতার ও ডুব দেওয়ার ক্ষমতা এদেরকে অনন্য করে তুলেছে।
গুসান্ডার পাখির দৈর্ঘ্য সাধারণত ৫৮ থেকে ৭২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পুরুষ পাখির মাথা গাঢ় সবুজ রঙের এবং দেহ ধবধবে সাদা বা হালকা গোলাপী আভার হয়। অন্যদিকে, স্ত্রী পাখির মাথা লালচে-বাদামী এবং দেহ ধূসর রঙের। এদের ঠোঁট লম্বা, সরু এবং লাল রঙের, যার কিনারে করাতের মতো খাঁজ থাকে যা পিচ্ছিল মাছ ধরতে সাহায্য করে।
এই পাখিরা সাধারণত স্বচ্ছ জলের নদী, হ্রদ এবং জলাশয়ের আশেপাশে বাস করতে পছন্দ করে। বিশেষ করে বনবেষ্টিত জলাভূমি যেখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়, সেখানে এদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। শীতকালে এরা বরফমুক্ত হ্রদ বা উপকূলীয় এলাকায় চলে আসে।
গুসান্ডারের প্রধান খাদ্য হলো মাছ। এদের ঠোঁটের বিশেষ গঠন এদেরকে জলের নিচে দ্রুতগামী মাছ শিকারে দক্ষ করে তোলে। মাছ ছাড়াও এরা জলজ পতঙ্গ, ব্যাঙ, ছোট কাঁকড়া এবং মাঝে মাঝে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীও খেয়ে থাকে।
এরা সাধারণত গাছের কোটরে বাসা তৈরি করে। জলের কাছাকাছি বড় গাছের প্রাকৃতিক গর্ত বা কাঠঠোকরার পরিত্যক্ত গর্ত এদের পছন্দের জায়গা। স্ত্রী পাখি সাধারণত ৮ থেকে ১২টি ডিম পাড়ে এবং একাই তা দেয়। বাচ্চাগুলো ডিম থেকে ফোটার অল্প সময়ের মধ্যেই বাসা থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং জলে নামতে শুরু করে।
গুসান্ডার একটি অত্যন্ত সামাজিক পাখি এবং প্রায়ই এদের ছোট দলে দেখা যায়। এরা জলের নিচে দীর্ঘ সময় ডুব দিয়ে থাকতে পারে এবং শিকার তাড়া করতে পারে। ওড়ার সময় এরা জলের সমান্তরালে খুব দ্রুত গতিতে ডানা ঝাপটায়।
বর্তমানে আইইউসিএন (IUCN) রেড লিস্ট অনুযায়ী গুসান্ডার 'ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত' (Least Concern) হিসেবে বিবেচিত। তবে নদী দূষণ, মাছের স্বল্পতা এবং বাসস্থান ধ্বংসের কারণে কিছু অঞ্চলে এদের সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে।
গুসান্ডার দেখতে হলে পরিষ্কার জলের নদী বা বড় হ্রদের ধারে বাইনোকুলার নিয়ে অপেক্ষা করুন। এরা খুব লাজুক প্রকৃতির হয়, তাই এদের কাছাকাছি যাওয়ার সময় শব্দ করবেন না। এদের মাছ ধরার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করা যেকোনো ফটোগ্রাফারের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, গুসান্ডার বা বড় মারগানজার প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। এদের শিকার করার কৌশল এবং জীবনধারা সত্যিই আকর্ষণীয়। আমাদের প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো রক্ষা করার মাধ্যমেই আমরা এই সুন্দর পাখিদের টিকিয়ে রাখতে পারি।
Official Distribution Data provided by BirdLife International and Handbook of the Birds of the World (2025)