oriental white eye
Zosterops palpebrosus
Last update: 04 Aug 2026Oriental White Eye সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য
| Scientific Name | Zosterops palpebrosus |
|---|---|
| Status | LC অসংকটাপন্ন |
| Size | 10-10 cm (4-4 inch) |
| Colors |
Green
White
|
| Type |
Perching Birds
|
| Family | White-eyes and Yuhinas |
অন্যান্য ভাষায় Oriental White Eye-এর নাম
| gujarati | શ્વેતનયના, બબુના |
|---|---|
| hindi | बबूना |
| kannada | ಬೆಳ್ಗಣ್ಣ |
| malayalam | വെള്ളക്കണ്ണിക്കുരുവി |
| marathi | चश्मेवाला, चाळीशीवाला |
| nepali | कांकीर |
| punjabi | ਸੁਨੱਖੀ (ਪੰਛੀ) |
| sanskrit | चटकिका |
| tamil | வெள்ளைக் கண்ணி |
ভূমিকা
চশমা পাখি (Indian White-eye), যার বৈজ্ঞানিক নাম Zosterops palpebrosus, সাদা-চোখ পরিবারের একটি ছোট পাসারিন পাখি। এরা মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের উন্মুক্ত বনভূমি ও বাগানে বসবাসকারী একটি আবাসিক পাখি। এদের চোখের চারপাশে থাকা বিশেষ সাদা বলয়ের কারণে এরা সহজেই পরিচিতি পায়।
শারীরিক চেহারা
এই পাখিটি আকারে বেশ ছোট, সাধারণত ৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। এদের শরীরের উপরের অংশ হলুদাভ জলপাই রঙের, গলা এবং লেজের নিচের অংশ উজ্জ্বল হলুদ। এদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো চোখের চারপাশের উজ্জ্বল সাদা রঙের রিং বা বলয়, যা দেখতে অনেকটা চশমার মতো। এদের পেট সাদাটে ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে।
বাসস্থান
চশমা পাখি বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এদের সাধারণত উন্মুক্ত বনাঞ্চল, বাগান, ফলের বাগান, এবং ম্যানগ্রোভ বনে দেখা যায়। দক্ষিণ ভারতে এদের এলাচ বাগানেও প্রচুর পরিমাণে দেখা মেলে। এরা মূলত গাছের উঁচুতে থাকতে পছন্দ করে।
খাদ্যাভ্যাস
এরা মূলত সর্বভুক স্বভাবের। এদের প্রধান খাদ্যের তালিকায় রয়েছে:
- ছোট পতঙ্গ: বিভিন্ন ধরণের পোকা ও লার্ভা।
- ফুলের মধু: এরা বিভিন্ন ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে।
- ফল: ছোট বেরি জাতীয় ফল এদের খুব প্রিয়।
প্রজনন এবং বাসা
চশমা পাখির প্রজনন মৌসুম মূলত ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে এপ্রিল মাসে এটি তুঙ্গে থাকে। এরা গাছের ডালে মাকড়সার জাল, লাইকেন এবং উদ্ভিজ্জ তন্তু দিয়ে একটি ছোট কাপের মতো বাসা তৈরি করে যা দেখতে অনেকটা দোলনার মতো। স্ত্রী পাখি সাধারণত দুটি হালকা নীল রঙের ডিম পাড়ে এবং বাবা-মা উভয়ই ছানাদের যত্ন নেয়।
আচরণ
এরা অত্যন্ত সামাজিক পাখি এবং প্রজনন মৌসুম ছাড়া অন্য সময়ে ছোট দলে বিচরণ করে। এরা খুব চঞ্চল এবং এক গাছ থেকে অন্য গাছে দ্রুত উড়ে বেড়ায়। এদের ডাক বেশ মিষ্টি এবং নাসিক্য স্বরে 'চিয়ার' (cheer) এর মতো শোনায়। এরা পাতায় জমে থাকা শিশির বিন্দুতে স্নান করতে পছন্দ করে।
সংরক্ষণ অবস্থা - LC অসংকটাপন্ন
আইইউসিএন (IUCN) লাল তালিকা অনুযায়ী, চশমা পাখি ন্যূনতম উদ্বেগজনক (Least Concern) হিসেবে বিবেচিত। এদের সংখ্যা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং এরা মানুষের বসতির আশেপাশেও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে।
আকর্ষণীয় তথ্য
- এরা ফুলের মধু খাওয়ার সময় পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- মাঝে মাঝে এরা অন্য পাখির বাসা থেকে উপাদান চুরি করে নিজেদের বাসা তৈরি করে।
- এরা এতটাই ছোট যে অনেক সময় বড় বাদুড় বা কিংফিশার এদের শিকার করে।
- ১৯৮০-এর দশকে ক্যালিফোর্নিয়ায় এদের একটি বন্য জনসংখ্যা তৈরি হয়েছিল যা পরে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য টিপস
- ভোরবেলা বাগানের ঝোপঝাড় বা ফুলের গাছের আশেপাশে এদের খোঁজার চেষ্টা করুন।
- এদের চেনার জন্য চোখের সাদা বলয়টি লক্ষ্য করুন।
- এরা খুব দ্রুত নড়াচড়া করে, তাই এদের ছবি তোলার জন্য উচ্চ শাটার স্পিড ব্যবহার করুন।
- এদের মিষ্টি কলতান শুনে এদের অবস্থান শনাক্ত করা সহজ হয়।
উপসংহার
চশমা পাখি আমাদের বাস্তুতন্ত্রের একটি অপরিহার্য অংশ। এদের পরাগায়ন ক্ষমতা এবং ক্ষতিকর পতঙ্গ দমনের ভূমিকা অতুলনীয়। এই সুন্দর ছোট পাখিগুলোকে রক্ষা করতে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বনভূমি সংরক্ষণ করা জরুরি।
Tag: