himalayan vulture
Gyps himalayensis
Last update: 13 Feb 2026Himalayan Vulture সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য
| Scientific Name | Gyps himalayensis |
|---|---|
| Status | NT বিপদগ্রস্ত |
| Size | 103-122 cm (41-48 inch) |
| Colors |
Brown
Cream
|
| Type |
Birds of Prey
|
| Family | Hawks, Eagles |
ভূমিকা
হিমালয়ী গৃধিনী (Himalayan Vulture) বা হিমালয়ান শকুন হলো হিমালয় এবং তিব্বত মালভূমি অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম এবং রাজকীয় শিকারি পাখি। এটি একটি ওল্ড ওয়ার্ল্ড ভালচার এবং এটি আমাদের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শারীরিক চেহারা
এই পাখির আকার অত্যন্ত বিশাল, সাধারণত এদের দৈর্ঘ্য ১১৫-১২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের ডানার বিস্তার প্রায় ২.৫ থেকে ৩ মিটার। প্রাপ্তবয়স্ক পাখিদের শরীর ফ্যাকাশে বাদামী বা খয়েরি রঙের হয় এবং এদের মাথা ও ঘাড়ে পালক খুব কম থাকে। এদের বিশাল ঠোঁট মাংস ছিঁড়ে খেতে সাহায্য করে।
বাসস্থান
এরা মূলত উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করতে পছন্দ করে। হিমালয় পর্বতমালা, তিব্বত এবং মধ্য এশিয়ার পাহাড়ি এলাকা এদের প্রধান চারণভূমি। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২০০ থেকে ৫০০০ মিটার উচ্চতায় এদের বিচরণ দেখা যায়।
খাদ্যাভ্যাস
হিমালয়ী গৃধিনী প্রধানত মৃত পশুর মাংস বা শবভোজী প্রাণী। এরা মৃত গবাদি পশু বা বন্য প্রাণীর দেহাবশেষ খেয়ে পরিবেশকে রোগমুক্ত এবং পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এরা কখনোই জীবন্ত শিকার করে না।
প্রজনন এবং বাসা
এরা সাধারণত খাড়া পাহাড়ের গায়ে বা দুর্গম গুহার কিনারে বাসা তৈরি করে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে এদের প্রজনন ঋতু শুরু হয়। এরা সাধারণত একটি মাত্র সাদা রঙের ডিম পাড়ে এবং মা-বাবা উভয়ই ছানার যত্ন নেয়।
আচরণ
এরা অত্যন্ত সামাজিক পাখি এবং প্রায়শই দলবদ্ধভাবে খাবার খোঁজে। এরা থার্মাল কারেন্ট বা উষ্ণ বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে খুব উঁচুতে দীর্ঘ সময় ধরে ডানা না ঝাপটায় আকাশে ভেসে থাকতে পারে। খাবারের সন্ধানে এরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।
সংরক্ষণ অবস্থা - NT বিপদগ্রস্ত
আইইউসিএন (IUCN) এর লাল তালিকা অনুযায়ী হিমালয়ী গৃধিনী বর্তমানে 'প্রায় সংকটাপন্ন' (Near Threatened) হিসেবে তালিকাভুক্ত। যদিও অন্য অনেক শকুনের তুলনায় এদের সংখ্যা বেশি, তবুও বিষাক্ত ওষুধের প্রভাবে এরা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
আকর্ষণীয় তথ্য
- এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং ভারী উড়ন্ত পাখি।
- এরা ১০,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় উড়তে সক্ষম।
- এরা পরিবেশের 'প্রাকৃতিক ঝাড়ুদার' হিসেবে পরিচিত।
- এদের দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ, যা অনেক দূর থেকে মৃত পশু শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য টিপস
- পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করুন।
- পাহাড়ের ঢালে বা উঁচু উপত্যকায় এদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
- পাখিদের বিরক্ত না করে শান্তভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখুন।
উপসংহার
হিমালয়ী গৃধিনী আমাদের প্রকৃতির এক অনন্য দান। বাস্তুতন্ত্রের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় এদের অবদান অতুলনীয়। এই রাজকীয় পাখিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুরক্ষিত রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

