white eyed buzzard
Butastur teesa
Last update: 10 Feb 2026White Eyed Buzzard সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য
| Scientific Name | Butastur teesa |
|---|---|
| Status | LC অসংকটাপন্ন |
| Size | 43-43 cm (17-17 inch) |
| Colors |
Brown
White
|
| Type |
Birds of Prey
|
| Family | Hawks, Eagles |
অন্যান্য ভাষায় White Eyed Buzzard-এর নাম
| french | Busautour aux yeux blancs |
|---|---|
| gujarati | ટીસો, શ્વેતનેણ ટીસો |
| hindi | तीसा |
| malayalam | വെള്ളക്കണ്ണിപ്പരുന്തു് |
| marathi | तीसा, व्याध |
| nepali | जमल श्येनबाज |
| tamil | வெள்ளைக்கண் வைரி |
ভূমিকা
শ্বেত-চক্ষু তিসা বাজ (Butastur teesa) দক্ষিণ এশিয়ায় পাওয়া একটি মাঝারি আকারের শিকারি পাখি। এটি সাধারণ বাজপাখির (Buteo) থেকে কিছুটা আলাদা এবং এর অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য সহজেই চেনা যায়। বাংলাদেশে এটি একটি পরিচিত শিকারি পাখি যা মূলত খোলা প্রান্তর এবং বনভূমিতে বিচরণ করে।
শারীরিক চেহারা
এই পাখির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উজ্জ্বল সাদা আইরিস বা চোখের মণি। এদের গলায় একটি সাদা অংশ থাকে যার মাঝখানে একটি কালো রেখা স্পষ্ট দেখা যায়। এদের লেজ লালচে-বাদামী রঙের এবং ডানাগুলো ওড়ার সময় গোলাকার দেখায়। পূর্ণবয়স্ক পাখির ঠোঁটের গোড়ার অংশ বা 'সের' (cere) উজ্জ্বল হলুদ রঙের হয়। এদের আকার সাধারণত ৪৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয় এবং ওজন মাঝারি হয়ে থাকে।
বাসস্থান
শ্বেত-চক্ষু তিসা বাজ সাধারণত শুষ্ক খোলা জমি, উন্মুক্ত বনভূমি এবং চাষাবাদের জমিতে বাস করে। এদের হিমালয়ের পাদদেশ থেকে শুরু করে ১০০০-১২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত দেখা যায়। এরা ঘন বনের পরিবর্তে খোলা জায়গায় থাকতে এবং সেখান থেকে শিকার পর্যবেক্ষণ করতে বেশি পছন্দ করে।
খাদ্যাভ্যাস
এই পাখিটি মূলত মাংশাসী এবং বিভিন্ন ধরণের ছোট প্রাণী শিকার করে। এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে:
- ছোট পাখি এবং ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী
- সরীসৃপ যেমন টিকটিকি এবং সাপ
- ব্যাঙ এবং কাঁকড়া
- পঙ্গপাল, ঘাসফড়িং এবং ঝিঁঝিঁ পোকার মতো বড় পতঙ্গ
প্রজনন এবং বাসা
প্রজনন মৌসুমে এরা বেশ কোলাহলপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরা সাধারণত গাছের উঁচু ডালে ডালপালা এবং কাঠি দিয়ে অগোছালো বাসা তৈরি করে। প্রজননকালে এদের দলবদ্ধভাবে আকাশে উড়তে এবং উচ্চস্বরে ডাকতে দেখা যায়। এদের ছানাগুলো অন্যান্য শিকারি পাখির মতো সাদা না হয়ে বরং লালচে-বাদামী রঙের হয়।
আচরণ
এরা শিকারের সন্ধানে দীর্ঘক্ষণ গাছের মগডালে বা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সোজা হয়ে বসে থাকে। শিকার ধরার জন্য এরা বাতাসের উষ্ণ স্রোত বা থার্মাল ব্যবহার করে আকাশে ডানা মেলে ভেসে বেড়ায়। এরা মূলত একাকী থাকতে পছন্দ করলেও প্রজনন মৌসুমে জোড়ায় বা ছোট দলে দেখা যায়।
সংরক্ষণ অবস্থা - LC অসংকটাপন্ন
যদিও এই পাখিটি দক্ষিণ এশিয়ার অনেক জায়গায় বিস্তৃতভাবে দেখা যায়, তবে কিছু অঞ্চলে এদের সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে এদের সংরক্ষণ অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও বাসস্থানের বিনাশ এবং কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার এদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে।
আকর্ষণীয় তথ্য
- এদের চোখের সাদা মণি এদের অন্যান্য প্রজাতির বাজপাখি থেকে আলাদা করার প্রধান উপায়।
- এরা 'Buteo' গণের অন্তর্ভুক্ত সত্যিকারের বাজপাখি নয়।
- তরুণ পাখিদের চোখের মণি শুরুতে বাদামী থাকে এবং বড় হওয়ার সাথে সাথে সাদা হয়ে যায়।
- এরা কৃষিজমির ক্ষতিকর পতঙ্গ এবং ইঁদুর খেয়ে কৃষকদের বন্ধু হিসেবে কাজ করে।
পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য টিপস
পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য কিছু টিপস:
- খোলা মাঠ বা কৃষি জমির ধারের বৈদ্যুতিক তার বা খুঁটির ওপর এদের খুঁজিুন।
- দূরবীন দিয়ে এদের চোখের সাদা রঙ এবং গলার কালো রেখা দেখে শনাক্ত করুন।
- সকাল এবং বিকেলের দিকে এরা বেশি সক্রিয় থাকে, তাই এই সময়ে এদের দেখার সম্ভাবনা বেশি।
উপসংহার
পরিশেষে, শ্বেত-চক্ষু তিসা বাজ আমাদের বাস্তুসংস্থানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং ক্ষতিকর পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে এদের ভূমিকা অপরিসীম। এই সুন্দর শিকারি পাখিটি এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।