প্যাসেঞ্জার পিজন (Passenger Pigeon), যার বৈজ্ঞানিক নাম Ectopistes migratorius, উত্তর আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর এবং দুঃখজনক একটি পাখি। একসময় এই প্রজাতির কয়েক বিলিয়ন পাখি আকাশ ঢেকে দিয়ে উড়ে বেড়াত, কিন্তু মানুষের অবিবেচনাপূর্ণ শিকার এবং বন উজাড়ের ফলে এটি আজ পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত। এই পাখিটি মূলত তার বিশাল ঝাঁক এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষমতার জন্য পরিচিত ছিল। উডল্যান্ড বা স্থলভাগের পাখি হিসেবে এদের জীবনযাত্রা ছিল অত্যন্ত সামাজিক। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও এদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, যখন তারা আকাশে উড়ত, তখন দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো ঢেকে গিয়ে অন্ধকারের মতো পরিবেশ সৃষ্টি হতো। প্যাসেঞ্জার পিজন কেবল একটি পাখি ছিল না, এটি ছিল উত্তর আমেরিকার বাস্তুসংস্থানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুর্ভাগ্যবশত, ১৯১৪ সালে সিনসিনাটি চিড়িয়াখানায় 'মার্থা' নামের শেষ প্যাসেঞ্জার পিজনটির মৃত্যুর মাধ্যমে এই প্রজাতির অস্তিত্বের সমাপ্তি ঘটে। এই নিবন্ধে আমরা এই বিলুপ্ত প্রজাতির শারীরিক বৈশিষ্ট্য, জীবনধারা এবং কেন তারা হারিয়ে গেল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাদের গল্প আমাদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।