Intermediate Egret সম্পর্কে মৌলিক তথ্য
| Scientific Name | Ardea intermedia |
|---|---|
| Status | LC অসংকটাপন্ন |
| Size | 65-72 cm (26-28 inch) |
| Colors |
White
Grey
|
| Type | Waders |
স্থানীয় ভাষায় নাম
| assamese: | পানী বগলী |
|---|---|
| french: | Héron intermédiaire |
| malayalam: | ചെറുമുണ്ടി |
| marathi: | मध्यम बगळा |
| tamil: | வெண் கொக்கு |
ভূমিকা
মাঝারি বক (Intermediate Egret), যার বৈজ্ঞানিক নাম Mesophoyx intermedia, একটি মাঝারি আকারের জলচর পাখি। নামের সাথে মিল রেখে এটি বড় বক এবং ছোট বকের মাঝামাঝি আকারের হয়ে থাকে। সারা বিশ্বের জলাভূমি অঞ্চলে এদের বিচরণ দেখা যায়।
শারীরিক চেহারা
মাঝারি বকের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৬৫ থেকে ৭২ সেন্টিমিটার হয়। এদের পুরো শরীর ধবধবে সাদা পালকে ঢাকা থাকে। এদের পা সাধারণত কালো রঙের এবং ঠোঁট মোটা ও হলদেটে হয়। তবে প্রজনন মৌসুমে এদের ঠোঁটের রঙ লাল বা কালো হতে পারে এবং পিঠে ও বুকে সুন্দর ঝালরযুক্ত পালক গজায়। এদের ঘাড়ের দৈর্ঘ্য শরীরের দৈর্ঘ্যের চেয়ে কিছুটা কম হয় এবং মাথাটি কিছুটা গম্বুজাকৃতির দেখায়।
বাসস্থান
এরা সাধারণত জলাভূমি, প্লাবিত তৃণভূমি, বিল, পুকুর এবং লেকের আশেপাশে থাকতে পছন্দ করে। এছাড়া ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় খাঁড়ি এবং কর্দমাক্ত এলাকায় এদের দেখা মেলে। এরা সাধারণত ছোট দলে বিচরণ করে তবে শিকারের সময় আলাদা হয়ে যায়।
খাদ্যাভ্যাস
মাঝারি বক মূলত আমিষভোজী। এদের প্রধান খাদ্য তালিকায় রয়েছে:
- মাছ
- ব্যাঙ
- কাঁকড়া ও চিংড়ি
- জলজ পোকামাকড়
প্রজনন এবং বাসা
এরা সাধারণত অন্যান্য বক বা পানকৌড়ির সাথে কলোনি তৈরি করে বাসা বাঁধে। গাছের উঁচু ডালে বা ঝোপঝাড়ে ডালপালা দিয়ে মাচার মতো বাসা তৈরি করে। এরা সাধারণত ২ থেকে ৫টি ডিম পাড়ে, যা অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে কম-বেশি হতে পারে।
আচরণ
মাঝারি বক অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে শিকার ধরে। এরা জলাভূমিতে খুব ধীরে হেঁটে শিকারের সন্ধান করে। এদের শিকার ধরার ভঙ্গি বেশ আকর্ষণীয়, এরা শরীর সোজা রেখে ঘাড় সামনের দিকে বাড়িয়ে শিকারের জন্য অপেক্ষা করে। রাতের বেলায় এরা দলবদ্ধভাবে গাছের ডালে বিশ্রাম নেয়।
সংরক্ষণ অবস্থা
বর্তমানে এই প্রজাতির পাখি প্রকৃতিতে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে জলাভূমি ভরাট এবং পরিবেশ দূষণের কারণে এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।
আকর্ষণীয় তথ্য
- বড় বকের ঠোঁটের নিচের রেখা চোখের পেছন পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, কিন্তু মাঝারি বকের ক্ষেত্রে এটি চোখের নিচেই শেষ হয়।
- প্রজনন মৌসুমে এদের পা এবং ঠোঁটের রঙে পরিবর্তন আসে যা এদের আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
- এরা বড় বকের তুলনায় কম ধৈর্যশীল এবং শিকারের জন্য বেশি চলাফেরা করে।
পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য টিপস
মাঝারি বক শনাক্ত করার জন্য এদের ঘাড়ের ভাঁজ এবং ঠোঁটের দৈর্ঘ্য লক্ষ্য করুন। বড় বকের ঘাড়ের মাঝামাঝি একটি স্পষ্ট ভাঁজ থাকে যা মাঝারি বকের ক্ষেত্রে কম দেখা যায়। ভালো বাইনোকুলার ব্যবহার করলে এদের চোখের নিচের রেখাটি দেখে সহজেই চিনতে পারবেন।
উপসংহার
মাঝারি বক আমাদের প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। জলাভূমির বাস্তুসংস্থান রক্ষায় এই পাখিদের ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের উচিত এদের আবাসস্থল রক্ষা করা এবং প্রকৃতির এই সুন্দর সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখা।