Waders
avatar
Photo by Admin
Not available

greater adjutant

Leptoptilos dubius

Last update: 24 Feb 2026

Greater Adjutant সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য

Scientific NameLeptoptilos dubius
Status NT বিপদগ্রস্ত
Size145-150 cm (57-59 inch)
Colors
Grey
White
Type
Waders
type
FamilyStorks

অন্যান্য ভাষায় Greater Adjutant-এর নাম

assameseহাড়গিলা
bengaliহাড়গিলা, বড় মদনটাক
bhojpuriधेनुक
frenchMarabout argala
gujaratiજમાદાર ઢોંક, મોટો જમાદાર
hindiहरगिला
kannadaಅಡ್ಜುಟೆಂಟ್ ಹಕ್ಕಿ
malayalamവയൽനായ്ക്കൻ
marathiक्षत्र बलाक, चंद्र्याढोक (विदर्भ)
nepaliराजगरुड
oriyaହାଡଗିଳା
portugueseadjunte-gigante, marabu-gigante
punjabiਬਢੀਂਗ
sanskritबृहद् बक, महाचंचुबक, दीर्घपाद कङ्क
spanishMarabú argala, cigüeña de cuello castaño
tamilபெருநாரை
teluguపెద్ద కొంగ, చనుమల కొంగ

ভূমিকা

হাড়গিলা (Greater Adjutant) সারস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি বিশালকার এবং অনন্য পাখি। একসময় দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ব্যাপকভাবে দেখা গেলেও, বর্তমানে এরা বিশ্বের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এদের গাম্ভীর্যপূর্ণ চলনভঙ্গির জন্য ইংরেজিতে এদের 'অ্যাডজুট্যান্ট' বলা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই পাখির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শারীরিক চেহারা

হাড়গিলা একটি বিশালাকার পাখি যার উচ্চতা প্রায় ১৪৫-১৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে:

  • ঠোঁট: এদের একটি বিশাল এবং মজবুত কীলকাকৃতির ঠোঁট রয়েছে।
  • ঘাড় ও মাথা: এদের মাথা ও ঘাড় পালকহীন এবং চামড়া দৃশ্যমান। ঘাড়ের নিচে একটি বিশেষ থলি ঝুলে থাকে যা প্রজনন ঋতুতে উজ্জ্বল কমলা রঙের হয়।
  • ডানা: এদের ডানার বিস্তার প্রায় ২৫০ সেন্টিমিটার, যা এদের আকাশে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
  • রঙ: প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠের দিকটা কালচে ধূসর এবং পেটের দিকটা সাদাটে।

বাসস্থান

হাড়গিলা সাধারণত মিঠা পানির জলাভূমি, প্লাবনভূমি এবং ধানক্ষেতে বিচরণ করে। তবে খাদ্যের সন্ধানে এদের প্রায়ই শহরের আবর্জনার স্তূপ বা ভাগাড়ের আশেপাশে দেখা যায়। এরা নিচু ভূমিতে থাকতে পছন্দ করলেও নেপালের হিমালয়ের পাদদেশে ১৫০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে এদের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র ভারতের আসাম, বিহার এবং কম্বোডিয়ায় অবস্থিত।

খাদ্যাভ্যাস

হাড়গিলা মূলত সর্বভুক এবং প্রকৃতির এক দক্ষ পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এদের খাদ্যাভ্যাসের প্রধান দিকগুলো হলো:

  • পচা মাংস: এরা মূলত মৃত প্রাণীর মাংস বা ক্যারিয়ন খেয়ে জীবনধারণ করে।
  • শিকার: এরা ব্যাঙ, বড় পতঙ্গ, সরীসৃপ, ইঁদুর এবং এমনকি বুনো হাঁসও শিকার করে গিলে ফেলে।
  • মাছ: এরা ২-৩ কেজি ওজনের বড় মাছ শিকারে পারদর্শী।
  • বর্জ্য: শহরের আবর্জনার স্তূপ থেকে এরা বিভিন্ন খাদ্যকণা এবং উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে।

প্রজনন এবং বাসা

হাড়গিলার প্রজনন মৌসুম সাধারণত শীতকালে শুরু হয়। এরা উঁচু গাছের মগডালে ডালপালা দিয়ে বিশাল আকৃতির বাসা তৈরি করে। এরা কলোনি বা দলবদ্ধভাবে বাস করতে পছন্দ করে। প্রজনন সময়ে এদের ঘাড়ের থলি এবং গায়ের রঙ আরও উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে আসামের কামরূপ জেলা এদের একটি অন্যতম প্রধান প্রজনন কেন্দ্র।

আচরণ

হাড়গিলা তাদের সামরিক কায়দায় হাঁটার জন্য পরিচিত। এরা দিনের বেলায় শকুনদের সাথে তাপীয় স্রোতের (Thermals) সাহায্যে আকাশে উড়ে বেড়ায়। এদের ঘাড়ের থলিটি বাতাসের সাথে যুক্ত থাকে, যা সম্ভবত এদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বা ডাক দিতে সাহায্য করে। এরা সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হলেও খাবারের জন্য ভাগাড়ে অন্যান্য পাখিদের সাথে প্রতিযোগিতা করে।

সংরক্ষণ অবস্থা - NT বিপদগ্রস্ত

হাড়গিলা বর্তমানে একটি বিপন্ন (Endangered) প্রজাতির পাখি। ২০০৮ সালের এক জরিপ অনুযায়ী বিশ্বে এদের সংখ্যা ছিল মাত্র এক হাজারের কাছাকাছি। আবাসস্থল ধ্বংস, জলাভূমি ভরাট এবং উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে এদের খাদ্যের অভাব দেখা দেওয়ায় এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক উদ্যোগের ফলে এদের সংখ্যা কিছুটা স্থিতিশীল হচ্ছে।

আকর্ষণীয় তথ্য

  1. 'হাড়গিলা' নামটি অসমীয়া শব্দ 'হাড়' (অস্থি) এবং 'গিলা' (গেলা) থেকে এসেছে, যার অর্থ 'যে পাখি হাড় গিলে ফেলে'।
  2. ১৯ শতকে কলকাতায় এদের প্রচুর সংখ্যায় দেখা যেত এবং এরা কলকাতার মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের লোগোতে স্থান পেয়েছিল।
  3. এদের ঘাড়ের থলিটি খাবারের জন্য নয়, বরং বাতাসের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা ১৮২৫ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয়।
  4. লোকজ চিকিৎসায় এদের মাংস ব্যবহারের জন্য একসময় এদের শিকার করা হতো।

পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য টিপস

পাখি প্রেমীদের জন্য কিছু বিশেষ টিপস:

  • হাড়গিলা দেখার সেরা সময় হলো শীতকাল, যখন এরা প্রজনন কলোনিতে অবস্থান করে।
  • ভারতের আসামের গুয়াহাটি বা বিহারের ভাগলপুর এদের দেখার জন্য আদর্শ স্থান।
  • এদের পর্যবেক্ষণ করার সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন যাতে তারা ভয় না পায়।
  • বাইনোকুলার ব্যবহার করে এদের বিশাল ঠোঁট এবং ঘাড়ের সূক্ষ্ম কারুকাজ পর্যবেক্ষণ করুন।

উপসংহার

হাড়গিলা প্রকৃতির এক অদ্ভুত সৃষ্টি এবং পরিবেশের অপরিহার্য অংশ। মৃত প্রাণী এবং আবর্জনা খেয়ে এরা পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। এই বিলুপ্তপ্রায় পাখিটিকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সঠিক সচেতনতা এবং আবাসস্থল সংরক্ষণের মাধ্যমেই আমরা এই বিশালকার সারস পাখিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে পারি।

Greater Adjutant কোথায় পাওয়া যায়? (বিতরণ মানচিত্র)

Official Distribution Data provided by
BirdLife International and Handbook of the Birds of the World (2025)

Tag:

Share:

Previous
Next
avatar
{blogMain.author}
200 Follower
Follow
{blogMain.author} is a writer who draws. He’s the Bestselling author of “Number of The Year”. Donec vitae tortor efficitur, convallis lelobortis elit.
Subscribe For Daily Newsletter